শেখ হাসিনার নামে এবার ছাত্র হত্যা মামলা
বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার দাবি স্বজনহারাদের
গণহত্যা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রাজপথে থাকা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের দাবি এটাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করার স্কোপ আছে কি না। আমরা সেটা খতিয়ে দেখছি
অধ্যাপক আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে কাফরুল থানাধীন ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজনকে (১৮) গুলি করে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে এই মামলাটির আবেদন জমা দেন নিহত রাজনের ভাই রাজিব। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে কাফরুল থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলোর জন্য নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হতে পারে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার বিচারের দাবি তুলেছেন নিহতদের স্বজনরা।
রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজন হত্যা মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিগত সরকারের সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. এ আরাফাত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান কচি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হক সাচ্চু, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত আইজিপি ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হারুন অর রশিদ, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ নেতা সালামত উল্লাহ সাগর ও দিপঙ্কর বাহার দীপ্ত।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতা সাগর ও দীপ্তর সরাসরি অংশগ্রহণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ১৯ জুলাই বিকাল ৩টার দিকে নির্বিচারে গুলি করে। রাজন মিরপুর ১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়। রাজনকে মিরপুর-৬ নম্বরস্থ ডা. আজমল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আরও অনেক ছাত্র গুলিবিদ্ধ ও নিহত হয়। একই দিন রাজধানীর উত্তরা থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানাকে অপহরণের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালত উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার প্রধান কো-অর্ডিনেটর বরাবর অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম এই আবেদন দায়ের করেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত সাভারের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবীর এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজেই। বুলবুল কবিরের পক্ষে আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে নিহতরা এর আওতায় থাকবে। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।
অপরাধের ধরনের বলা হয়েছে, এক থেকে নয় নম্বর আসামির নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাকে হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অপরাধ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ ও কতিপয় অসাধু র্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহ।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘গণহত্যার’ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার করার উদ্যোগ নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণহত্যা এবং গুলিবর্ষণ এই সমস্ত ঘটনার জন্য কিছু মামলা হয়েছে আপনারা জানেন। রাজপথে থাকা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, জনগণের বিভিন্ন গোষ্ঠী দাবি করেছেন যে, এটাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করার স্কোপ আছে কি না। আমরা সেটা খতিয়ে দেখেছি। ১৯৭৩ সানের যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্রুনাল অ্যাক্ট আছে, যেটা পরে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে সংশোধন হয়েছে, সেই আইনে আমরা জুলাই গণহত্যা, জুলাই গণহত্যা বলতে আমরা অগাস্টের প্রথম পাঁচ দিনের গণহত্যাও বোঝাচ্ছি, এটার জন্য দায়ী যে ব্যক্তিবর্গ আছেন, উনাদের বিচারের জন্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উনাদের বিচারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটা ছোটখাটো গবেষণার মত করেছি, করে দেখেছি, এই আইনের অধীনে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, যারা আদেশ দিয়েছেন, বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুনির্দিষ্টভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওইসব ঘটনার বিচারের উদ্যোগ নিচ্ছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আইসিটিতে বিচারের উদ্যোগ নেয়া হবে, এটা ক্যাটাগরিকালি বলতে পারেন। বিষয়টি আরো ব্যাখ্যা করে আইন উপদেষ্টা বলেন, সাবেক সরকারের সরকারপ্রধানসহ অন্য যারা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যাদের আদেশ নির্দেশ থাকার অভিযোগ রয়েছে, আমরা পত্রপত্রিকায় কিছু মন্ত্রীর নাম দেখেছি। আমরা এখানে কোনো ছাড় দেব না। আমরা বিদায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদেরও যদি কমান্ড রেসপনসিবিলিটি থাকে, আমরা সেটা পর্যন্ত খতিয়ে দেখব। এই বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকেও পুনর্গঠন করার কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, একটি ইনভেস্টিগেশন টিম আছে, প্রসিকিউশন টিম আছে। এগুলোকে আমরা রিঅর্গানাইজড করার চেষ্টা করছি, আদালতটা একটু পরে করব। ইনভেস্টিগেশন আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার চেষ্টা করছি। জাতিসংঘ থেকে বারবার আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বিচারের সত্যিকারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের সর্বাত্মক তত্ত্বাবধানে আমাদের ইনভেস্টিগেশন টিম কাজ করবে। সেটার লক্ষ্যে সব উদ্যোগ গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে ঢাকায় জাতিসংঘের আসাবিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। সহযোগিতা চাইব। এ ছাড়া, আমাদের আরও উচ্চ পর্যায় থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থা আছে, উনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এটা শুরু করতে পারব। বিচার বিভাগীয় সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে-বিদেশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব বিবরণী আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্য জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার বিচারের দাবি তুলেছেন নিহতদের স্বজনরা। গতকাল বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শহীদ পরিবার ও নিপীড়িত ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের ওই আন্দোলনে নিহত হয়েছে প্রায় তিনশ মানুষ, আহত বহু মানুষের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে। মানববন্ধনে শহীদ মিনারের বেদির সামনে গুলিবিদ্ধ সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দেখা যায় অনেককে। তাদের অনেকেই কথা বলতে গিয়ে চোখে পানি ধরে রাখতে পরেননি। স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে সেখানকার পরিবেশ। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় গোলাগুলিতে নিহত হন রিকশা চালক হাফিজুল সিকদার। মানববন্ধনে হাফিজুলের ছবি নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন তার বাবা আবু বকর সিকদার। তিনি বলেন, আমার ছেলে ওই দিন পেট চালাতে রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হইছিল। কিন্তু আর ঘরে ফিরল না। একটা বুলেটে আমার দুইটা নাবালক নাতি এতিম, তার বউ এখন বিধবা। এই জন্য শেখ হাসিনা দায়ী। কারণ সে নির্বিচারে গুলি চালাইতে নির্দেশ দিয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।
শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সংঘাত-সহিংসতা জায়গা করে নিলে গত ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে পথে নামে। ওইদিন পথে পথে অবরোধ আর সংঘর্ষের মধ্যে বহু ভবনে আগুন দেয়া হয়, ঘটে প্রাণহানিও। ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে ১৯ জুলাই সংঘর্ষ চলাকালে ছবি তুলতে গিয়ে নিহত হন দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের সাবেক ভিডিও জার্নালিস্ট তাহির জামান প্রিয়। মানববন্ধনে এসে প্রিয়’র মা সামসি আরা জামান বলেন, আমার ছেলে যখন গুলি খেয়েছে তখন আমি রংপুরে আন্দোলনকারীদের সাহায্য করছি। মারা যাওয়া লোকগুলোর জন্যে আমি কেঁদেছি। কিন্তু যখন শুনলাম, আমার ছেলে গুলি খেয়েছে কিন্তু তার লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরে যখন তার লাশ পাওয়া গেল, তখন থেকে আমি আর কাঁদতে পারিনি। তাহিরের জন্য আমার আফসোস নাই আর। আমার এখন অনেক সন্তান। এখন যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হল যারা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে তাদের জন্য এগিয়ে যাওয়া। আমার যদি সামর্থ্য থাকত, আমার এই অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসার ভার আমি নিতাম। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ২২ বছর বয়সী ইমন হোসেন আকাশের মৃত্যু হয় সরকার পতনের আগের দিন গত ৪ অগাস্ট।
ছেলের ছবি হাতে নিয়ে শহীদ মিনারে এসে ইমনের মা বেবী খাতুন বলেন, আমার একমাত্র সন্তানকে তারা গুলি করে হত্যা করেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি পরে আজমত হসপিটালে আমরা তার লাশ পাই। আমার ছেলে লাশ এখনো চোখে ভাসে। এটা আমি নিতে পারছি না। আমি সন্তান হত্যার বিচার চাই। গাজীপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিবারও বিচার চাইতে এসেছিলেন শহীদ মিনারে। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামুনের বোন। তিনি বলেন, আমাদের দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিল। আমার বাবা একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। ৫ তারিখে আমার ভাইকে গাজীপুর আনসার একাডেমির সামনে গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে হত্যা করা হয়। আমার মা পাগলপ্রায়। মা দুপুরে ভাত বেড়ে রেখেছিল, আবদুল্লাহ এসে ভাত খাবে। কিন্তু তার কাছে পৌঁছাল তার ছেলের লাশ। আমার বাবা মাসে মাসে রেমিট্যান্স পাঠায় কিন্তু এই দেশ তাকে উপহার দিয়েছে আমার ভাইয়ের লাশ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় আরো ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার মামলা
- আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৪ ১২:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৪ ১২:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ